গ্রীষ্মকালের তপ্ত রোদে নাজেহাল জনজীবন। বাইরে বের হলেই প্রচণ্ড তাপ আর ঘামে শরীর দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ছে। ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতার কারণে মাথা ঘোরা, দুর্বলতা এমনকি অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনাও ঘটছে অহরহ। তবে চিকিৎসকরা বলছেন, জীবনযাত্রায় সামান্য কিছু পরিবর্তন আনলেই এই গরমেও নিজেকে রাখা যায় সতেজ ও কর্মক্ষম।
কেন গরমে ক্লান্তি বাড়ে?
অতিরিক্ত গরমে শরীর নিজেকে ঠান্ডা রাখতে প্রচুর ঘাম তৈরি করে। এতে শরীর থেকে প্রয়োজনীয় লবণ ও পানি বেরিয়ে যাওয়ায় রক্তসঞ্চালন কিছুটা ধীর হয়ে পড়ে এবং কোষে অক্সিজেন সরবরাহ কমে যায়। এর ফলেই আমরা দ্রুত ক্লান্তিবোধ করি। তাই সচেতনতাই এই গরমে সুস্থ থাকার প্রধান চাবিকাঠি।
গরমে সুস্থ থাকতে জেনে নিন ৭টি বিশেষ টিপস:
১. শরীরকে রাখুন হাইড্রেটেড
তৃষ্ণার জন্য অপেক্ষা না করে সারাদিন অল্প অল্প করে পানি পান করুন। শুধু পানি নয়, খনিজ উপাদানের ভারসাম্য বজায় রাখতে ডাবের পানি, লেবুর শরবত, ঘোল বা ওআরএস (ORS) পান করুন। খাদ্যতালিকায় তরমুজ, শসা ও কমলার মতো পানিজাতীয় ফল রাখুন।
২. খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন
গরমে গুরুপাক বা অতিরিক্ত তেল-মসলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন। এগুলো শরীরের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়। দই, সালাদ, মুগ ডাল এবং সবুজ শাকসবজি বেশি করে খান। সকালে ভেজানো বাদাম বা কলা খেলে দিনভর ভালো এনার্জি পাওয়া যায়।
৩. কড়া রোদ এড়িয়ে চলুন
চেষ্টা করুন দুপুর ১২টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত সরাসরি রোদে না যেতে। জরুরি প্রয়োজনে বের হলে অবশ্যই ছাতা, টুপি বা স্কার্ফ ব্যবহার করুন। শরীর ঠান্ডা রাখতে হালকা রঙের ঢিলেঢালা সুতির পোশাক পরুন।
৪. বাইরে থেকে ফিরেই সাবধান!
রোদ থেকে এসেই সাথে সাথে ফ্রিজের কনকনে ঠান্ডা পানি খাবেন না। কিছুক্ষণ জিরিয়ে নিয়ে সাধারণ তাপমাত্রার পানি পান করুন। একইভাবে ঘাম না শুকিয়ে গোসল করা বা সরাসরি এসির নিচে যাওয়া থেকে বিরত থাকুন। ৫-১০ মিনিট ফ্যানের বাতাসে শরীরকে মানিয়ে নিতে দিন।
৫. ঠান্ডা খাবারে সতর্কতা
রোদ থেকে ফিরে সাথে সাথে আইসক্রিম বা অতিরিক্ত ঠান্ডা ফল খাবেন না। এতে হিতে বিপরীত হয়ে গলা ব্যথা বা কাশির সমস্যা হতে পারে।
৬. পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও ঘুম
গরমের কারণে শরীর দ্রুত ক্লান্ত হয়, তাই বিশ্রামের বিকল্প নেই। সারাদিন কর্মক্ষম থাকতে রাতে অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা গভীর ঘুম নিশ্চিত করুন।
৭. হালকা ব্যায়াম ও যোগব্যায়াম
তীব্র গরমে ভারী ব্যায়াম না করে সকাল বা বিকালে হালকা স্ট্রেচিং বা যোগব্যায়াম করতে পারেন। এটি শরীরের মেটাবলিজম ঠিক রাখে এবং মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে।


